ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণপূর্ত অধিদপ্তরে -মিঠুন-সিফাত চক্রের দৌরাত্ম তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২২-০২-২০২৬ ১২:৪৮:২২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-০২-২০২৬ ১২:৪৮:২২ অপরাহ্ন
গণপূর্ত অধিদপ্তরে -মিঠুন-সিফাত চক্রের দৌরাত্ম তাদের  বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিফাত
গণপূর্ত অধিদপ্তরে -মিঠুন-সিফাত চক্রের দৌরাত্ম তাদের  বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)



গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার,অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এমনকি কালো টাকার মালিক এই কর্মকর্তা সরকারি চাকরি শৃংখলা ভঙ্গ করে নারি সহকর্মী উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে দপ্তরের কাজ কর্মের স্বাভাবিক কর্ম পরিবেশ বিনষ্ট করেছেন।



নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী,উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিঠুন মিস্ত্রী এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসী গণপূর্ত অধিদপ্তরে এক অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে(দুদক) দায়েরকৃত এক আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

১৬ ফেব্রয়ারি-২০২৬ তারিখে জনস্বার্থে দুদকে দায়েরকৃত এক অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী’র ঢাকা শহরে রয়েছে একাধিক প্লট,ফ্লাট ও গাড়ি। গ্রামের বাড়িতে রয়েছে বাংলো ও খামারবাড়ি। ভারতের পশ্চিম বঙ্গে সমীরণ মিস্ত্রী ও মিঠুন মিস্ত্রী দুই ভাই মিলে বাড়ি ক্রয় করেছেন। কলকাতা শহরে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার এফডিআর । যা তার জ্ঞাত আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সমীরণ মিস্ত্রী, মিঠুন মিস্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয় পত্রের বিপরীতে ব্যাংক ব্যালেন্স ও সম্পদের অনুসন্ধান করলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে,অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী ও মিঠুন মিস্ত্রী অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা মানিলন্ডারিং প্রক্রিয়ায় ভারতে পাচার করেছেন এবং সেখানে বাড়ি ক্রয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়া, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী, মিঠুন মিস্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা অর্জিত বৈধ-অবৈধ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রকৃত তথ্য আয়কর ফাইলে গোপন করে সরকারকে নিয়মিত আয়কর ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী ও তার আপন ভাই মিঠুন মিস্ত্রীর সম্পদ বৈধ আয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেলে তা সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সরকারি চাকরির আয়ের হিসাব অনুযায়ী এত সম্পদ অর্জন সম্ভব নয়। সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে এই সম্পদ অর্জন করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তার আওতাধীন বিভিন্ন টেন্ডার ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী’র সরাসরি প্রভাব রয়েছে। তিনি ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন। আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ঠিকাদারী করছেন। সমীরণ মিস্ত্রী ও তার আপন ভাই মিঠুন মিস্ত্রীর অনিয়ম দুর্নীতির বিশ্বস্ত সারথি হচ্ছেন বহুল বিতর্কিত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসী।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অনিয়ম– দুর্নীতির আবর্জনার স্তূপে এবার নতুন করে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রীর নাম। পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে আসা এই কর্মকর্ত-কে এখন ঘিরে ধরেছে আরও ভয়ংকর অভিযোগ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় দুইশ’ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সমীরণ মিস্ত্রী’র বিরুদ্ধে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীর সঙ্গে ”অস্বাভাবিক সম্পর্ক” গড়ে তোলেন সমীরণ মিস্ত্রী। দীর্ঘদিন একই বিভাগে একসঙ্গে কর্মরত থাকা, ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা এবং তাকে নিয়ে ভারত গমনের ঘটনাও এখন দপ্তরের ভেতরে-বাইরে আলোচিত বিষয়। এসব সম্পর্কের আড়ালেই গড়ে ওঠে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। গণপূর্তে সমীরণ মিস্ত্রী’র সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হচ্ছেন তার আপন ভাই উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মিঠুন মিস্ত্রী।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সার্কেল–-৩-এর অধীন ই/এম বিভাগ–-৭ (জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা)-এ কর্মরত থাকা অবস্থায় নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী নিজেকে প্রমাণ করেছেন এক ভয়ংকর “অবৈধ অর্থ কামানোর মিস্ত্রী” হিসেবে। প্রায় ৭ বছর ধরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থান করে তিনি ছিলেন পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তিনি তখন আবির্ভূত হন “জাতীয় সংসদের টাকাখেকো ইঞ্জিন” হিসেবে।

সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য এসেছে তথাকথিত ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’ ঘিরে। জাতীয় সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি দরপত্রের মাধ্যমে অঙ্গভিত্তিক প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এসব প্রকল্পে কার্যাদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তা ছিলেন স্বয়ং সমীরণ মিস্ত্রী নিজেই। অর্থাৎ পরিকল্পনা, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের নিয়ন্ত্রণ একক হাতে রেখে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
আবেদনে দাবি করা হয়, অভিযোগের পাহাড় সত্ত্বেও সমীরণ মিস্ত্রী এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। গত ১ সেপ্টেম্বর তাকে গণপূর্তের ইএম বিভাগ–-৭ থেকে পিএন্ডডি বিভাগ–-১-এ বদলি করা হয়। একই সময়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীকেও সেখানে বদলি করা হয়, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে। এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন সমীরণ মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পরকীয়া কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে শতকোটি টাকার লুটপাট সব মিলিয়ে এই ঘটনা এখন শুধু একজন কর্মকর্তার নয়, বরং গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে গড়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নগ্ন চিত্র।

গত ১ সেপ্টেম্বর গণপূর্তের ইএম বিভাগ-৭ থেকে সমীরণ মিস্ত্রীকে পিএন্ডডি বিভাগ-১ এ বদলি করা হয়। ইএম বিভাগ-৭ এ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আনোয়ার হোসেনকে। এর আগে দীর্ঘ ৭ বছর গণপূর্তের সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করেন সমীরণ মিস্ত্রী। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, পরে গণপূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফ আহমেদকে ব্যবহার করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একই বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। কখনো কখনো তিনি শেখ হেলাল, শেখ জুয়েল ও তার স্ত্রীকে ব্যবহার করে নিজের পোস্টিং টিকিয়ে রেখেছিলেন।

ইএম বিভাগ-৭ এর অধীনে প্লানিং কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন সিফাত ওয়াসী। নিজ আওতাধীন এলাকায় দায়িত্ব পালনে চরম অদক্ষতা ও দুর্নীতির পরিচয় দেন সিফাত ওয়াসী। দায়িত্ব পালনের পুরো সময়টিতেই তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রীর সঙ্গে লেপ্টে ছিলেন। এ নিয়ে সে সময়ে নানা কথাবার্তা উঠলেও সমীরণ তার ক্ষমতাবলে আগলে রেখেছিলেন সিফাত ওয়াসীকে। সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের স্ত্রী সিফাত ওয়াসীকে বদলি করার জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে অনুরোধ জানালেও সমীরণ নিজ ক্ষমতাবলে তা আটকে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী,উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিঠুন মিস্ত্রী এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসী সিন্ডিকেটের ক্ষমতার অপব্যবহার,জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন,মানি লন্ডাারিং,আয়কর ফাঁকি প্রদান ও অনিয়ম দুর্নীতি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা জন্যে আবেদন পত্রে আহবান জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী,উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিঠুন মিস্ত্রী এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীর টেলিফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।  হোয়াটস্অ্যাপে অভিযোগপত্র সম্বলিত বার্তা প্রদান করা হলে কোন উত্তর না দিয়ে; প্রতিবেদক-কে ব্লক করে দিয়েছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ